ফাইবার নয়, কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে পারে এমন কিছু আশ্চর্যজনক খাবার: বিজ্ঞানীদের নতুন তথ্য

যুগান্তকারী এক গবেষণায় এমন কিছু আশ্চর্যজনক খাবার ও সাপ্লিমেন্টের কথা বলা হয়েছে, যা দীর্ঘদিনের কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সত্যিই সাহায্য করতে পারে।

কিংস কলেজ লন্ডনের নতুন গবেষণা অনুসারে, কিউই ফল, রাই ব্রেড (এক বিশেষ ধরনের রুটি) এবং খনিজ সমৃদ্ধ পানি দীর্ঘস্থায়ী কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে মুক্তি দিতে পারে।

প্রাপ্তবয়স্কদের দীর্ঘস্থায়ী কোষ্ঠকাঠিন্যের জন্য প্রথমবারের মতো বিজ্ঞান-ভিত্তিক খাদ্যাভ্যাসের নির্দেশিকা তৈরি করা হয়েছে। এই নির্দেশিকায় এমন কিছু খাবার ও সাপ্লিমেন্টের কথা বলা হয়েছে যা এই সমস্যা নিয়ন্ত্রণে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

গবেষক দলের মতে, ইসবগুলের ভুসি, বিশেষ ধরনের প্রোবায়োটিক এবং ম্যাগনেসিয়াম অক্সাইড সাপ্লিমেন্ট কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে সাহায্য করে বলে প্রমাণিত হয়েছে।

তবে, কিছু সাধারণ পরামর্শ, যেমন “বেশি ফাইবারযুক্ত খাবার” খাওয়া বা সোনাপাতার (এক ধরনের জোলাপ) ব্যবহার, সেগুলোর কার্যকারিতার পক্ষে তেমন কোনো শক্তিশালী বৈজ্ঞানিক প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

এই নতুন নির্দেশিকাগুলো দুটি বিখ্যাত জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে এবং ব্রিটিশ ডায়েটেটিক অ্যাসোসিয়েশন (BDA) এটিকে অনুমোদন করেছে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো স্বাস্থ্যকর্মীদের, যেমন—ডাক্তার, নার্স এবং ডায়েটিশিয়ানদের কোষ্ঠকাঠিন্যের চিকিৎসায় নতুন পদ্ধতি সম্পর্কে জানানো। এছাড়া সাধারণ মানুষও এর মাধ্যমে নিজেদের খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাত্রার পরিবর্তন করে কোষ্ঠকাঠিন্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারবে।

একটি সাধারণ কিন্তু কম আলোচিত সমস্যা কোষ্ঠকাঠিন্য একটি দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা, যা মানুষের জীবনযাত্রার মান অনেক কমিয়ে দেয় এবং স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর আর্থিক চাপ তৈরি করে। এখন পর্যন্ত চিকিৎসার নির্দেশিকাগুলোতে খুব সীমিত এবং পুরোনো কিছু পরামর্শই দেওয়া হতো, যেমন—বেশি করে ফাইবার ও পানি পান করা।

আগের নির্দেশিকাগুলোর চেয়ে এটি ভিন্ন, কারণ এটি অনেকগুলো কঠোর বৈজ্ঞানিক পর্যালোচনার ওপর ভিত্তি করে তৈরি। ডায়েটিশিয়ান, পুষ্টিবিদ, গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্ট (পেটের ডাক্তার), এবং জিপি (সাধারণ ডাক্তার) সহ একটি বিশেষজ্ঞ দল ৭৫টিরও বেশি ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল পর্যালোচনা করে এই নির্দেশিকা তৈরি করেছে।

কিংস কলেজ লন্ডনের প্রধান গবেষক ডঃ ইরিনি মিডি বলেন, “দীর্ঘস্থায়ী কোষ্ঠকাঠিন্য একজনের দৈনন্দিন জীবনে বিশাল প্রভাব ফেলতে পারে। আমরা প্রথমবারের মতো দেখিয়েছি কোন খাবারগুলো সত্যিই সাহায্য করতে পারে এবং কোনগুলোর পক্ষে যথেষ্ট প্রমাণ নেই। খাদ্যাভ্যাসের মাধ্যমে এই সমস্যার উন্নতি করা গেলে মানুষ নিজেরাই নিজেদের উপসর্গ নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে এবং তাদের জীবনযাত্রার মানও উন্নত হবে।”

এই পরামর্শগুলো কোষ্ঠকাঠিন্যের বিভিন্ন দিক, যেমন—মলত্যাগের পরিমাণ, মলের ধরন এবং জীবনযাত্রার মানের ওপর জোর দেয়। এর ফলে প্রত্যেক ব্যক্তির নির্দিষ্ট উপসর্গ অনুযায়ী চিকিৎসা দেওয়া সহজ হবে।

গবেষণায় ঘাটতি পর্যালোচনায় দেখা গেছে, যদিও কিছু খাবার ও সাপ্লিমেন্ট কার্যকর, তবে এই বিষয়ে হওয়া বেশিরভাগ গবেষণার মান খুব একটা ভালো নয়। প্রায় সব গবেষণাই শুধু একটি নির্দিষ্ট খাবারের ওপর করা হয়েছে, সম্পূর্ণ খাদ্যাভ্যাসের ওপর নয়। তাই কোষ্ঠকাঠিন্য নিয়ন্ত্রণে আরও ভালো পুষ্টি গবেষণার জরুরি প্রয়োজন রয়েছে।

ডঃ মিডি আরও বলেন, “বেশি ফাইবারযুক্ত খাবার খাওয়া শরীরের জন্য নানাভাবে উপকারী এবং এটি কোষ্ঠকাঠিন্যের জন্য একটি প্রচলিত পরামর্শ। কিন্তু আমাদের গবেষণা বলছে, এটি কোষ্ঠকাঠিন্যের ক্ষেত্রে আসলেই কাজ করে কি না, তার যথেষ্ট প্রমাণ নেই। এর পরিবর্তে, আমাদের গবেষণা এমন কিছু নতুন খাদ্যাভ্যাস দেখিয়েছে যা রোগীদের সত্যিই সাহায্য করতে পারে। কোনটি কাজ করে এবং কোনটি করে না, তা নিশ্চিতভাবে জানার জন্য আমাদের আরও উচ্চমানের গবেষণা দরকার।”

এই গবেষণার অন্যতম লেখক, অধ্যাপক কেভিন হুইলান বলেন, “এই নতুন নির্দেশিকাটি স্বাস্থ্যকর্মী এবং রোগীদের খাদ্যের মাধ্যমে কোষ্ঠকাঠিন্য নিয়ন্ত্রণে একটি আশাব্যঞ্জক পদক্ষেপ। এখন থেকে বিশ্বজুড়ে কোষ্ঠকাঠিন্যে আক্রান্ত ব্যক্তিরা সেরা প্রমাণের ওপর ভিত্তি করে আধুনিক পরামর্শ পাবেন, যা তাদের উপসর্গ এবং জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে সাহায্য করবে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *