১৩ বছরের এক মেয়ে তার মৃত্যুর পরেও অঙ্গ দানের মাধ্যমে ৮ জনের জীবন বাঁচিয়েছে।

মাত্র ১৩ বছরের মেয়ে, অসুস্থ হয়ে জীবনের সমাপ্তি ঘটায়। কিন্তু তার শরীরের অঙ্গ দিয়ে বাঁচলো ৮ জন মানুষ! এমন গল্প শুনলে কি আপনার মন প্রশ্নে আসে না, এত অল্প বয়সে কিভাবে একজন শিশু এত বড় অবদান রেখে যেতে পারে? এমনকি মৃত্যুর পরও কিভাবে কেউ অন্যদের জীবনে আলো ছড়িয়ে যেতে পারে? ইংল্যান্ডের ছোট্ট মেয়ে জেমাইমা লেইজেল ব্রেইন অ্যনি*উ*রিজমে আক্রান্ত হয়ে জীবনের সমাপ্তি ঘটায়, কিন্তু তার পরিবারের একটি সিদ্ধান্ত ৮টি জীবন রক্ষা করেছে — যা যুক্তরাজ্যের অঙ্গদান ইতিহাসে একটি রেকর্ড।

জেমাইমার হার্ট, প্যানক্রিয়াস, ছোট অন্ত্র তিনজনের শরীরে প্রতিস্থাপন করা হয়। তার দুটি কিডনি দুজনকে দেওয়া হয়। লিভারটি ভাগ করে দুজনের শরীরে, এবং ফুসফুস দেওয়া হয় আরেকজনকে। এই আটজনের মধ্যে পাঁচজনই ছিল শিশু। জেমাইমা মারা যাওয়ার কয়েক সপ্তাহ আগেই তার পরিবারে অঙ্গদানের বিষয়ে আলোচনা হয়েছিল, যা পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে। এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া ছিল কঠিন, কিন্তু তার বাবা-মা বলেন, ‘না’ বললে হয়তো আটটি জীবন ঝরে যেত। তার মা সোফি বলেন, “সব পিতামাতার প্রথম প্রতিক্রিয়া হয় না বলা, কিন্তু আগেভাগে আলোচনা থাকলে সিদ্ধান্তটা সহজ হয়।” জেমাইমার পরিবার একটি ট্রাস্ট পরিচালনা করছে, যেটি অঙ্গদান বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি মস্তিষ্কে আঘাতপ্রাপ্তদের সহায়তা করে।

এই কাহিনির সবচেয়ে অনন্য দিক হলো, জেমাইমা তার ছোটবেলা থেকেই বিভিন্ন ডায়েরি লিখতেন, যেখানে তিনি ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবনা, প্রেম, ঈশ্বর, দুঃখ ও স্বপ্নের কথা লিখে গেছেন। এমনকি এক জায়গায় তিনি লিখেছিলেন, “মনে হয় না আমি কখনো বিয়ে করে পরিবার গড়ার বা লেখক হওয়ার মতো বয়স পর্যন্ত বাঁচবো।” তার পরিবার এসব ডায়েরি দিয়ে একটি বই বানিয়েছে, নাম The Draft, যার বিক্রয় থেকে অর্জিত অর্থ দিয়ে ট্রাস্টের কাজ পরিচালিত হয়। NHS Blood and Transplant এই ঘটনার মাধ্যমে মানুষকে অঙ্গদানের বিষয়ে উৎসাহিত করতে চায়, কারণ প্রতি বছরেই প্রতিস্থাপনের অপেক্ষায় থাকা অবস্থায় জীবন হারিয়েছেন অসংখ্য মানুষ, যাদের মধ্যে শিশুর সংখ্যাও কম নয়।

জেমাইমার গল্প আমাদের শেখায়, ছোট্ট একটি সিদ্ধান্ত কত বড় প্রভাব ফেলতে পারে। NHS বলছে, আমরা যদি অঙ্গ গ্রহণ করতে প্রস্তুত থাকি, তাহলে দান করতেও প্রস্তুত থাকা উচিত। প্রতিটি পরিবারে এ নিয়ে কথা বলা দরকার, কারণ অনেক সময় মুহূর্তের সিদ্ধান্ত জীবন বাঁচাতে পারে।

এখানে আমি একটি বিষয় যোগ করতে আগ্রহী জানিনা আপনারা আমার সাথে একমত হবেন কিনা। সেটা হলো বাংলাদেশে দেখা যায় রক্ত লাগলে সবাই খুঁজ নেয় যে রক্ত দিতে পারবে কিনা তার পরিচিত বা আত্মীয়কে। কিন্তু সেই মানুষটাই বিনা কারণে যখন অন্য কারো রক্তের আনেক বেশি প্রয়োজন সুস্থ থাকার পরেও নানা অজুহাত দেখায়। আমরা যদি অঙ্গ/রক্ত গ্রহণ করতে প্রস্তুত থাকি, তাহলে দান করতেও প্রস্তুত থাকা উচিত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *