গেস-এর বিজ্ঞাপনে দেখা গেল যে মেয়েটি তাকে বাস্তবে খুঁজে পাবেন না।

এই মেয়েটা কি আদৌ বাস্তব? নাকি নিছকই এক কম্পিউটার-তৈরি ছবি? বিশ্বের সবচেয়ে নামকরা ফ্যাশন ম্যাগাজিন ভোগে (Vogue) প্রকাশিত এক বিজ্ঞাপন এখন এই প্রশ্নে তুলকালাম। গেস (Guess) ব্র্যান্ডের গ্রীষ্মকালীন ক্যাম্পেইনে দেখা যাচ্ছে এক চোখ ধাঁধানো সুন্দরী মডেলকে, যিনি আসলে একজন AI বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি চরিত্র। পত্রিকার এক কোণে ছোট করে লেখা, এটি AI-তৈরি। যদিও ভোগ জানিয়েছে, এটি তাদের সম্পাদকীয় সিদ্ধান্ত নয়, তবুও এটি তাদের মুদ্রিত সংখ্যায় প্রথম AI মডেল প্রদর্শন। কিন্তু এই ঘটনা অনেককেই চিন্তায় ফেলেছে, এতে বাস্তব মডেলদের ভবিষ্যৎ কী, আর আমাদের সৌন্দর্যের ধারণা কোথায় যাচ্ছে?

Seraphinne Vallora নামের এক স্টার্টআপ তৈরি করেছে এই AI মডেল। গেস-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা পল মার্সিয়ানো ইনস্টাগ্রামের মাধ্যমে যোগাযোগ করেছিলেন, তারপর ১০টি খসড়া মডেলের মধ্যে থেকে তিনি মডেল বেছে নেওয়া হয়। তবে এটাকে যতটা সহজ ভাবা হয়, কাজটা মোটেই তেমন না। একটি মডেল তৈরি করতে তাদের প্রায় এক মাস বা তার বেশি সময় লাগে, আর খরচ পড়ে লাখ ডলারের কাছাকাছি। Gonzalez ও Petrescu দাবি করছেন, তারা কোনো অবাস্তব রূপ তৈরি করছেন না, বরং আগের মতোই সুন্দর দেখানোর চেষ্টা করছেন, যেভাবে সুপারমডেলদের দেখানো হয়। তবে এটাও স্বীকার করছেন যে, তাদের পোস্টগুলোতে গায়ের রঙ বা শরীরের বৈচিত্র্য থাকলে খুব একটা সাড়া মেলে না। তাই ব্যবসার জন্য তারা এমন ছবি বেছে নেন যেগুলো নিয়ে মানুষ আলোচনা করবে।

কিন্তু বাস্তব মডেলদের জন্য এটি একরকম আঘাত। প্লাস-সাইজ মডেল ফেলিসিটি হেওয়ার্ড বলছেন, AI দিয়ে মডেল তৈরি করাটা “অলসতা আর সস্তার বহিঃপ্রকাশ”। এই ধারা বাস্তব ও বৈচিত্র্যময় মডেলদের জন্য হুমকি, বিশেষ করে যারা গত দশকে রূপান্তরিত লিঙ্গ, হিজাবধারী বা ভিন্ন আকারের শরীর নিয়ে ফ্যাশনে প্রতিনিধিত্ব এনেছিলেন। হেওয়ার্ড মনে করেন, ইন্ডাস্ট্রি আবার পিছিয়ে যাচ্ছে, আর এই AI ব্যবহার সেটাকেই ত্বরান্বিত করছে। ডাভ-এর একটি প্রচারণায় দেখা গেছে, AI যখন ‘বিশ্বের সবচেয়ে সুন্দরী নারী’ তৈরি করে, তখন তারা একই রকম সাদা, স্লিম, সোনালী চুল এবং নীল চোখ বিশিষ্ট নারীকেই বারবার তুলে আনে। এটা কিশোর-কিশোরীদের মানসিক স্বাস্থ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

সবশেষে, প্রশ্ন থেকেই যায়, এই প্রযুক্তি কি ভবিষ্যতের ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেবে? প্রযুক্তি উদ্যোক্তা সিনেড বোভেল বলেন, হয়তো আমরা সবাই একসময় নিজ নিজ AI অ্যাভাটার দিয়ে নিজের মতো পোশাক পরখ করতে পারব, তবে এও হতে পারে, একসময় মানুষ বুঝে যাবে এগুলো খুবই অবাস্তব, এবং আসল মানুষদের প্রতি আবার আগ্রহ বাড়বে। কিন্তু তার আগে, AI মডেলদের বাস্তবের মতো উপস্থাপন এবং স্পষ্টভাবে লেবেল না করাটা মানুষের আত্মমর্যাদা ও মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ভয়ানক হতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *