দিন-রাত সমান হলে পৃথিবী কি এক নতুন রূপ নেয়?

দিন-রাত সমান হলে কী হয়? সূর্য ঠিক পৃথিবীর মাঝ বরাবর থাকলে প্রকৃতিতে কী পরিবর্তন আসে? আর এই মহাজাগতিক ঘটনাকে ঘিরে প্রাচীনকাল থেকে মানুষ কেন উৎসব করে আসছে?

প্রতি বছর মার্চ ও সেপ্টেম্বর মাসে ঘটে এক চমকপ্রদ ঘটনা—বিষুব (Equinox)। এই দিনে পৃথিবীর উত্তর ও দক্ষিণ গোলার্ধ সমান পরিমাণ সূর্যের আলো পায়, ফলে দিন-রাত প্রায় ১২ ঘণ্টা করে সমান থাকে। ২০২৫ সালের ২০ মার্চ হবে বসন্তের বিষুব, যা উত্তর গোলার্ধে বসন্তের সূচনা করবে, আর সেপ্টেম্বরের বিষুব আনবে শরতের আগমনী বার্তা। দক্ষিণ গোলার্ধে ব্যাপারটা উল্টো, সেখানে মার্চে শরৎ ও সেপ্টেম্বরে বসন্ত আসে।

এই বিষুবের মূল রহস্য লুকিয়ে আছে পৃথিবীর ২৩.৫ ডিগ্রি কৌণিক হেলে থাকা অক্ষে। সারা বছর সূর্যের আলো উত্তর বা দক্ষিণ দিকে বেশি পড়ে, কিন্তু দুইবার এমন মুহূর্ত আসে, যখন সূর্য ঠিক বিষুবরেখার ওপর অবস্থান করে। তখন পৃথিবীর আলোক-অন্ধকার বিভাজনরেখা (terminator) সরাসরি উত্তর ও দক্ষিণ মেরুর ওপর দিয়ে যায়। তবে, পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল সূর্যালোককে সামান্য বাঁকিয়ে দেয়, ফলে পুরোপুরি সমান আলো-অন্ধকার তৈরি হয় না। শুধু পৃথিবী নয়, সৌরজগতের অন্যান্য গ্রহেও এই বিষুব ঘটে। ২০০৯ সালে ক্যাসিনি মহাকাশযান শনি গ্রহের বিষুবের বিরল দৃশ্য ক্যামেরায় বন্দি করে, যেখানে শনির বিশাল বলয় অন্ধকারে মিশে গিয়েছিল।

প্রাচীন যুগ থেকেই মানুষ সূর্যের এই গতিপথ চিহ্নিত করে বিভিন্ন উপায়ে বিষুবকে স্মরণ করেছে। পিরামিড, পাথরের খোদাই করা ক্যালেন্ডার, এমনকি গির্জার স্থাপত্যেও সূর্যের পরিবর্তনকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের লাকোটা সম্প্রদায় বিষুবের সময় বিশেষ তামাক তৈরি করে, যা আকাশের ‘ড্রায়েড উইলো’ নক্ষত্রপুঞ্জের সাথে সম্পর্কিত বলে বিশ্বাস করা হয়। তারা এই তামাক ব্যবহার করে বসন্তের আগমনী পূজা করে। ইংল্যান্ডের স্টোনহেঞ্জেও প্রতিবছর দ্রুইড ও পেগান ধর্মাবলম্বীরা বিষুব উদযাপন করে, যখন প্রাচীন পাথরগুলোর ফাঁক গলে সূর্যের আলো ঠিক নির্দিষ্ট জায়গায় পড়ে। মহাবিশ্বের এই সৌন্দর্য নিয়মিততার আজও মানুষকে মুগ্ধ করে রাখে!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *