আপনি কি কখনো ভেবেছেন মমির শরীরে কেমন গন্ধ থাকতে পারে?

কখনো ভেবেছেন, হাজার বছরের পুরনো মমি আসলে কেমন গন্ধ ছড়ায়? নতুন গবেষণা বলছে, মমির গন্ধ “কাঠের মতো,” “মশলাদার” এবং “মিষ্টি” হতে পারে! অবাক লাগছে? গবেষকরা বলছেন, এই গন্ধ শুধু সংরক্ষণ প্রক্রিয়াই নয়, বরং সেই ব্যক্তি কেমন জীবনযাপন করতেন, তাও প্রকাশ করতে পারে!

সম্প্রতি ‘জার্নাল অফ দ্য আমেরিকান কেমিক্যাল সোসাইটি’-তে প্রকাশিত গবেষণায় দেখা গেছে, প্রাচীন মিশরের ৯টি মমির গন্ধ বিশ্লেষণ করা হয়, যাদের বয়স প্রায় ২,০০০ বছর! গ্যাস ক্রোমাটোগ্রাফি-মাস স্পেকট্রোমেট্রি-ওলফ্যাকটোমেট্রি (GC-MS-O) প্রযুক্তি ও একটি বিশেষজ্ঞ দল এই পরীক্ষা চালায়। গবেষণায় পাওয়া যায়, সবচেয়ে সাধারণ গন্ধ “কাঠের,” “মশলাদার” ও “মিষ্টি,” পাশাপাশি “ধূপের মতো,” “বাসি,” ও “পচা” ধরনেরও ছিল। গবেষকরা ধারণা করছেন, সবচেয়ে শক্তিশালী গন্ধযুক্ত মমিটি হয়তো জীবদ্দশায় উচ্চ সামাজিক মর্যাদার অধিকারী ছিলেন, যার ফলে তার সংরক্ষণ প্রক্রিয়াও ছিল উন্নত মানের।

মিশরীয়রা বিশ্বাস করতেন, মৃতদেহ সংরক্ষণের মাধ্যমে আত্মাকে পরকালে পাঠানো সম্ভব। এজন্য তারা দেহের ভেতরের অংশ সরিয়ে ত্বক শুকিয়ে রাখতেন এবং সুগন্ধি তেল, রেজিন ও বিটুমেন ব্যবহার করতেন, যা মমিকে একটি আলাদা গন্ধ দিত। গবেষকরা এখন সেই গন্ধ পুনরায় তৈরি করার কাজ করছেন, যাতে মিউজিয়ামে দর্শনার্থীরা শুধু দেখতে নয়, গন্ধ নিয়েও মমির ইতিহাস অনুভব করতে পারেন!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *