ভায়োলেট জোসেপ!

ভয়াবহ সব দুর্ঘটনার হাত থেকে শুধু নিজেই বেঁচে ফেরেননি বরং অন্যদেরও বাঁচিয়েছেন। নিজের জীবনের চিন্তা না করে উদ্ধার করেছেন জাহাজডুবিতে পড়া যাত্রীদের। বলছি ভায়োলেট জোসেপের কথা।

ভায়োলেটের মা ছিলেন একজন জাহাজের স্টুয়ার্ডেস। সেই সূত্রে ভায়োলেটও তার মায়ের মতো হতে চেয়েছিলেন। এক সময় ভায়োলেট বিখ্যাত আরএমএস অলিম্পিক জাহাজের একজন ক্রু হিসেবে কাজ শুরু করেন। তখনো তিনি বুঝতে পারেননি, ভবিষ্যতে এ পেশার জন্য তাকে কতটা মূল্য দিতে হবে।

ভায়োলেট অলিম্পিকে যোগদানের পর জাহাজ যেদিন যাত্রা শুরু করে; সেদিনই আবহাওয়া ছিল খুবই খারাপ। ১৯১১ সালের ২০ সেপ্টেম্বর ভায়োলেট প্রথম জাহাজ দুর্ঘটনার শিকার হন। সেদিন অলিম্পিক সাউদাম্পটন থেকে ছেড়ে ব্রিটিশ যুদ্ধজাহাজ এইচএমএস হকের সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। যদিও এ দুর্ঘটনায় কোনো হতাহত হয়নি এবং ক্ষতি সত্ত্বেও জাহাজটি ডুবে না গিয়ে বন্দরে ফিরেছিল।

এরপর ভায়োলেট আরএমএস টাইটানিকে যোগ দেন। ১৯১২ সালের ১০ এপ্রিল আরএমএস টাইটানিকে স্টুয়ার্ডস হিসেবে আবারও নিযুক্ত হন ভায়োলেট। যাত্রা শুরুর ৪ দিন পর ১৪ এপ্রিল জাহাজটি উত্তর আটলান্টিকের একটি আইসবার্গে আঘাত লেগে বিধ্বস্ত হয়। তিনি জীবনের তোয়াক্কা না করে জাহাজের যাত্রীদের উদ্ধার করার চেষ্টা করতে থাকেন। লাইফবোটে একে একে যাত্রীদের নামিয়েছেন নিজ হাতে। একটি শিশুকেও উদ্ধার করেছিলেন ভায়োলেট। এরপর লাইফবোটে তারা বেঁচে ফেরেন। অন্য একটি জাহাজ তাদের উদ্ধার করে।

টাইটানিক ট্র্যাজেডির কিছু বছর পর ভায়োলেট ব্রিটিশ রেড ক্রসের নার্স হিসেবে কাজ শুরু করেন। এইচএমএইচএস ব্রিটানিক নামক একটি জাহোজের ক্রু হিসেবে নিযুক্ত ছিলেন। জাহাজটি যাত্রীবাহী থেকে একটি ভাসমান হাসপাতালে পরিণত হয়। যেটি সাগরেই ঘুরে বেড়াত। হঠাৎ একদিন জাহাজে আকস্মিক বিস্ফোরণ ঘটে। ভয়াবহ এ দুর্ঘটনায় ভায়োলেট পানিতে লাফিয়ে পড়ার সময় জাহাজের সঙ্গে লেগে তার মাথা ফেটে যায়। ভায়োলেটের শরীরে লাইফ জ্যাকেট থাকায় সেদিন প্রাণে বেঁচে গিয়েছিলেন। এরপর উদ্ধারকারীরা তাকে লাইফবোটে উঠিয়ে নেন।

একজন ক্রু হিসেবে ভয়াবহ সব দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে ফিরলেও ভায়োলেট তার পেশাকে কখনো ছোট করে দেখেননি। পরবর্তী জীবনে রেড স্টার লাইন, রয়েল মেল লাইনসহ বিভিন্ন সংস্থায় (শিপিং সংস্থা) কাজ করেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *