সবুজ রঙের সমুদ্র কেমন হতো? নীলের বদলে সবুজ পানি যদি মহাকাশ থেকে পৃথিবীকে ঘিরে থাকত, তাহলে কেমন লাগত? অবাক লাগলেও, বিজ্ঞানীরা বলছেন—পৃথিবীর সাগর এক সময় সত্যিই সবুজ ছিল!
জাপানি গবেষকেরা সাম্প্রতিক এক গবেষণায় জানান, আজ থেকে প্রায় ৩.৮ থেকে ১.৮ বিলিয়ন বছর আগে আর্কিয়ান যুগে পৃথিবীর সাগরে প্রচুর পরিমাণে আয়রন (লোহা) ছিল। সে সময় বায়ুমণ্ডলে অক্সিজেন ছিল না বললেই চলে। বরং, সাগরের পানিতে থাকা আয়রনের সাথে যুক্ত হয়ে অক্সিজেন ধীরে ধীরে সাগরকেই রঙিন করে তোলে। তখনকার জীববৈচিত্র্য ছিল এককোষী জীবের মধ্যেই সীমাবদ্ধ, যেগুলো সূর্যালোক থেকে শক্তি তৈরি করত। এরা পানির বদলে আয়রন ব্যবহার করেই ফটোসিনথেসিস করত, যার ফলে মুক্ত অক্সিজেন তৈরি হতো, এবং সেই অক্সিজেন আয়রনের সাথে মিশে সাগরের পানি সবুজ রঙ ধারণ করত।
গবেষকরা জাপানের আগ্নেয়গিরির দ্বীপ ইও জিমার আশেপাশের সবুজ পানির সঙ্গে তুলনা করে জানান, এখানে এখনো Fe(III) নামে একটি ধরনের অক্সিডাইজড আয়রন পাওয়া যায়, যা পানিকে সবুজ দেখায়। এই পানিতে ব্লু-গ্রীন অ্যালগি বা নীল-সবুজ শৈবালও খুব ভালোভাবে বেড়ে ওঠে। এই শৈবালে দুটি পিগমেন্ট থাকে—একটি আমাদের পরিচিত ক্লোরোফিল, অন্যটি হলো ফাইকোইরিথ্রোবিলিন (PEB)। গবেষণায় দেখা গেছে, সবুজ পানিতে PEB পিগমেন্ট ব্যবহার করে এসব শৈবাল বেশি ভালোভাবে ফটোসিনথেসিস করতে পারে।
এই গবেষণা শুধু অতীত নয়, ভবিষ্যতের ভাবনাও জাগায়। যেমন, একদিন হয়তো পৃথিবীর সাগর আবার রঙ বদলাবে—গরম জলবায়ু, সালফার বৃদ্ধি বা নির্দিষ্ট ব্যাকটেরিয়ার আধিক্যে সাগর বেগুনি বা লালও হতে পারে। এমনকি, মহাকাশ থেকে যদি কোনো গ্রহ সবুজ দেখায়, তাহলে সেটিও হতে পারে জীবনের প্রথম সূচনা স্থান! অর্থাৎ, সাগরের রঙ শুধু রূপ নয়—এটা জীবনের গল্পও বলে।
