চাঁদে মানুষ বসবাস করবে-এই স্বপ্ন আমরা বহুবার শুনেছি। কিন্তু সেখানে শুধু ঘর বা প্রযুক্তি নয়, খাবারও লাগবে। মহাকাশে দীর্ঘদিন থাকার সময় তাজা ও পুষ্টিকর খাবার পাওয়া সবসময়ই একটি বড় চ্যালেঞ্জ। সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ইতালির বিজ্ঞানীরা হাতে নিয়েছেন এক প্রকল্প, Moon-Rice। এই চাল গাছ খুবই ছোট হবে, মাত্র ১০ সেন্টিমিটার উচ্চতা, কিন্তু এর ফলন ও পুষ্টি হবে মহাকাশের জন্য একেবারে উপযুক্ত।
প্রকল্পটি পরিচালনা করছে ইতালির মহাকাশ সংস্থা(ASI) এবং মিলান, রোমের “Sapienza” এবং নাপোলির “Federico II” বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা। মিলানের দল উদ্ভিদগুলো এমনভাবে তৈরি করছে যাতে খুব ছোট জায়গাতেও সহজে বৃদ্ধি পেতে পারে। রোমের দল খুঁজছে কিভাবে উদ্ভিদের গঠন পরিবর্তন করে উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব। আর নাপোলির দল দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা ব্যবহার করে মহাকাশে ফসল উৎপাদনের নতুন উপায় উদ্ভাবনে নিয়োজিত।
এই গবেষণায় সবচেয়ে চমকপ্রদ বিষয় হলো, বিজ্ঞানীরা পৃথিবীতেই মহাকাশের মাইক্রোগ্র্যাভিটি পরিস্থিতি তৈরি করছেন। উদ্ভিদগুলোকে ক্রমাগত ঘুরিয়ে রাখা হয়, যাতে তারা উপর আর নিচ বোঝার সুযোগ না পায়—ফলে মহাকাশের পরিবেশের মতো অবস্থায় বেড়ে উঠতে শেখে। শুধু শারীরিক পুষ্টি নয়, এই প্রকল্পের আরেকটি বড় লক্ষ্য হলো মানসিক স্বস্তি। মহাকাশে উদ্ভিদ বেড়ে ওঠা দেখা মানুষের মনকে শান্ত করে, উদ্বেগ কমায়, যা দীর্ঘমেয়াদি অভিযানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এই Moon-Rice শুধু মহাকাশের জন্য নয়, পৃথিবীর কঠিন পরিবেশেও কাজে লাগতে পারে। মরুভূমি, মেরু অঞ্চল বা যেখানে জায়গা কম সেখানেও এমন উদ্ভিদ তাজা খাবারের উৎস হতে পারে। প্রকল্পটি চার বছরের, আর নয় মাসের মধ্যেই বিজ্ঞানীরা আশাব্যঞ্জক ফলাফল পেয়েছেন।
