ডঃ জিয়াউল করিম জাপানের বুকে কংক্রিটের উপরেই সবুজের বিপ্লব ঘটিয়েছেন।

বাংলাদেশকে প্রথম স্বীকৃতি দেওয়া শিল্পোন্নত দেশগুলোর মধ্যে একটি ছিল জাপান। সেই জাপানের প্রতি কৃতজ্ঞতা আর ভালোবাসা বুকে নিয়ে বাংলাদেশের এক তরুণ পাড়ি জমান সূর্যোদয়ের দেশে। নাম তার জিয়াউল করিম, বাড়ি নাটোরে। তিনি এখন জাপানের বুকে কংক্রিটের উপরেই সবুজের বিপ্লব ঘটিয়েছেন। জাপানের কৃষি খাত যখন বয়স্ক কৃষকদের কারণে পিছিয়ে পড়ছে, ঠিক তখনই এই বাংলাদেশি কৃষি বিজ্ঞানী তার জ্ঞান, পরিশ্রম আর নতুন নতুন উদ্ভাবন দিয়ে সেখানে প্রাণের সঞ্চার করছেন।

ডঃ করিমের পথচলা মোটেও সহজ ছিল না। বাংলাদেশে পড়াশোনা শেষ করে ২০০৩ সালে তিনি পিএইচডি করার জন্য জাপানে যান। পরিবারের সবাইকে ছেড়ে একা একা অচেনা এক দেশে গবেষণার কঠিন দিনগুলো তিনি পার করেছেন। তার প্রধান গবেষণার বিষয় ছিল উদ্ভিদ প্রযুক্তি, যা ব্যবহার করে তিনি ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য চিনির বিকল্প হিসেবে স্টেভিয়া উদ্ভিদ নিয়ে ২০ বছরেরও বেশি সময় ধরে কাজ করেছেন। তিন বছরে পিএইচডি শেষ করে তিনি চিবা ও তোয়ামা বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষক হিসেবে কাজ করেন এবং ধীরে ধীরে জাপানের কৃষি ব্যবস্থার সাথে নিজেকে জড়িয়ে ফেলেন। এই দীর্ঘ সময়ে তিনি ল্যাবরেটরির চার দেয়ালের ভেতর থেকে বেরিয়ে জাপানের বাস্তব কৃষি সমস্যা সমাধানের স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন।

তার আসল সাফল্য আসে যখন তিনি জাপানের স্থানীয় কৃষকদের সাথে সরাসরি মাঠে কাজ করা শুরু করেন। ইয়াকাগে শহরে তিনি এমন কিছু করে দেখান যা আগে কেউ ভাবেনি। তিনি পাকা পেঁপের বদলে কাঁচা পেঁপেকে জনপ্রিয় করার চেষ্টা করেন এবং তা দিয়ে ‘papaya ramen’ ও ‘পেঁপে চা’-এর মতো পণ্য তৈরি করেন। শুধু তাই নয়, জাপানে সহজলভ্য নয় এমন কাঁচা মরিচ চাষ করে সেটিকে গুঁড়ো করে নতুন মসলা হিসেবে বাজারে আনেন। তিনি নিজে শুধু চাষই করেননি, বরং প্রায় ২০-৩০ জন স্থানীয় জাপানি কৃষককে সাথে নিয়ে তাদের শিখিয়েছেন এবং একটি নতুন কৃষি কমিউনিটি গড়ে তুলেছেন।

বর্তমানে ডঃ করিম একটি বৃত্তিমূলক স্কুলে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের দেখাশোনা করছেন, কারণ তিনি চান নতুন প্রজন্মের তরুণ-তরুণীরা কৃষিতে আসুক। তার মতে, কৃষিকে শুধু পেশা হিসেবে না দেখে সাইড-বিজনেস হিসেবেও নেওয়া যায়। তিনি মনে করেন, জাপানের কৃষি খাতকে বাঁচাতে হলে তরুণদের এগিয়ে আসতে হবে এবং তাদের জন্য কৃষিকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *