ব্যায়াম নিয়ে একটি পুরনো ভুল ধারণা ভেঙে দিলেন বিজ্ঞানীরা

অস্ট্রেলিয়ার একটি যুগান্তকারী গবেষণায় দেখা গেছে যে, যারা শারীরিকভাবে ফিট, তাদের হৃৎপিণ্ড অলস ব্যক্তিদের তুলনায় প্রতিদিন কম স্পন্দিত হয়। এই গবেষণাটি সেই পুরনো ধারণাটিকে ভুল প্রমাণ করেছে, যেখানে বলা হতো ব্যায়াম করলে হৃৎস্পন্দন “খরচ” হয়ে যায়।

পুরনো ঐ ধারণা ভুলে যান যে ব্যায়াম করলে আপনার হার্টবিট কমে যায়। অস্ট্রেলিয়ার নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, যারা ফিট থাকে তাদের হার্টবিট প্রতিদিন অন্যদের চেয়ে কম হয়, যা তাদের দীর্ঘ জীবন পেতে সাহায্য করতে পারে।

গবেষণা অনুসারে, ক্রীড়াবিদদের গড় হার্ট রেট ছিল প্রতি মিনিটে ৬৮ বার, আর যারা তেমন সক্রিয় নন, তাদের ছিল ৭৬ বার। ২৪ ঘণ্টার হিসাবে, ক্রীড়াবিদদের হৃৎপিণ্ড প্রায় ৯৭,৯২০ বার স্পন্দিত হয়, যেখানে নিষ্ক্রিয় ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে তা ১,০৯,৪৪০ বার। অর্থাৎ, ফিট ব্যক্তিরা দিনে প্রায় ১০ শতাংশ কম হৃৎস্পন্দন ব্যবহার করেন।

এই গবেষণার প্রধান অধ্যাপক লা গেরচে বলেন, “এটা দিনে প্রায় ১১,৫০০ স্পন্দন বাঁচানোর মতো একটি অবিশ্বাস্য ব্যাপার। যদিও ব্যায়ামের সময় ক্রীড়াবিদদের হৃৎপিণ্ড বেশি কাজ করে, কিন্তু বিশ্রামের সময় তাদের হার্ট রেট এতটাই কম থাকে যে তা পুষিয়ে যায়।”

গবেষণায় দেখা গেছে, সবচেয়ে ফিট অংশগ্রহণকারীদের বিশ্রামের সময় হার্ট রেট প্রতি মিনিটে ৪০ বারের মতো ছিল, যেখানে সাধারণ মানুষের হার্ট রেট ৭০ থেকে ৮০-এর মধ্যে থাকে।

এর মানে হলো, পুরো দিনে কঠিন ব্যায়ামের সময়টুকু হিসাব করলেও, যারা নিষ্ক্রিয় তাদের তুলনায় ক্রীড়াবিদদের মোট হৃৎস্পন্দনের সংখ্যা কমই থাকে।

“সীমিত হৃৎস্পন্দন” ধারণাটির অবসান

এই গবেষণার ফলাফল সেই পুরনো ধারণাটিকে ভুল প্রমাণ করেছে, যেখানে বলা হতো মানুষের শরীর একটি ব্যাটারির মতো, যার শক্তি সীমিত এবং ব্যায়াম করলে তা শুধু খরচই হয়।

অধ্যাপক লা গেরচে ব্যাখ্যা করেন, “আপনি যত বেশি ফিট হবেন, আপনার শরীর তত বেশি কার্যকর হবে। আপনি যদি দিনে এক ঘণ্টা কঠোর প্রশিক্ষণও করেন, বাকি ২৩ ঘণ্টা আপনার হৃৎপিণ্ড অনেক ধীরে স্পন্দিত হয়। ফলে, মোটের ওপর আপনার হৃৎস্পন্দন কমই ব্যবহৃত হয়।”

বিশ্রামের সময় এই কম হার্ট রেট শুধু ফিটনেসের লক্ষণই নয়, এটি ভালো স্বাস্থ্যেরও ইঙ্গিত দেয়। অধ্যাপক লা গেরচে বলেন, নিরাপদে শারীরিক কার্যকলাপ বাড়ালে হৃৎপিণ্ডের কার্যক্ষমতা বাড়ে এবং দীর্ঘমেয়াদী হৃদরোগের ঝুঁকি কমে।

তিনি আরও বলেন, “ব্যায়াম ভালো মানসিক স্বাস্থ্য, দীর্ঘ জীবন এবং হৃদরোগের ঝুঁকি কমানোর সাথে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত।”

যদিও খুব কঠিন ব্যায়াম সাময়িকভাবে দৈনিক হৃৎস্পন্দনের সংখ্যা বাড়াতে পারে, তবে অধ্যাপক লা গেরচে বলেন, নিয়মিত এবং পরিমিত ব্যায়ামের উপকারিতা যেকোনো ঝুঁকির চেয়ে অনেক বেশি।

তিনি বলেন, “স্বাস্থ্যের জন্য সবচেয়ে বড় লাভ হলো নিষ্ক্রিয় অবস্থা থেকে মোটামুটি ফিট অবস্থায় যাওয়া। প্রতি সপ্তাহে মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যায়াম আপনার হৃৎপিণ্ডের কার্যকারিতা বদলে দিতে পারে। এটি এমনকি আপনার জীবনকাল কয়েক বছর বাড়িয়েও দিতে পারে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *