বিজ্ঞানীরা কফির উচ্ছিষ্ট বা বর্জ্যের এক দারুণ ব্যবহার খুঁজে পেয়েছেন

অস্ট্রেলিয়ার বিজ্ঞানীরা খুঁজে পেয়েছেন যে, পোড়ানো কফির গুঁড়ো ব্যবহার করে কংক্রিটকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বেশি শক্তিশালী করা সম্ভব। তাদের এই চমৎকার পদ্ধতিটি একই সাথে একাধিক সমস্যার সমাধান করতে পারে।

সারা বিশ্বে প্রতি বছর প্রায় ১,০০০ কোটি কিলোগ্রাম কফির বর্জ্য তৈরি হয়, যার বেশিরভাগই আবর্জনা ফেলার জায়গায় (ল্যান্ডফিল) ফেলে দেওয়া হয়। আরএমআইটি (RMIT) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশলী রাজীব রায়চাঁদ বলেন, “এই জৈব বর্জ্য পরিবেশে মিথেন এবং কার্বন ডাই অক্সাইডের মতো গ্রিনহাউস গ্যাস ছড়ায়, যা জলবায়ু পরিবর্তনের একটি বড় কারণ।”

অন্যদিকে, বিশ্বজুড়ে নির্মাণ শিল্পের প্রসারের কারণে কংক্রিটের চাহিদাও বাড়ছে। কংক্রিট তৈরির জন্য প্রচুর প্রাকৃতিক বালির প্রয়োজন হয়। নদী বা এর তীর থেকে এই বালি তোলার কারণে পরিবেশের ওপর মারাত্মক প্রভাব পড়ে। তাই বিজ্ঞানীরা এমন একটি উপায় খুঁজছিলেন যা পরিবেশবান্ধব হবে।

সাধারণত, কফির গুঁড়োর মতো জৈব জিনিস সরাসরি কংক্রিটের সাথে মেশানো যায় না। কারণ এটি থেকে এমন রাসায়নিক পদার্থ বের হয় যা কংক্রিটকে শক্তিশালী করার বদলে দুর্বল করে দেয়।

এই সমস্যার সমাধানে বিজ্ঞানীরা একটি বিশেষ পদ্ধতি ব্যবহার করেছেন। তারা কফির বর্জ্যকে অক্সিজেন ছাড়া ৩৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় গরম করেছেন। এই প্রক্রিয়াটিকে পাইরোলাইসিস (pyrolysis) বলা হয়। এর ফলে কফির বর্জ্য জৈব-অঙ্গারে (biochar) পরিণত হয়, যা এক বিশেষ ধরনের কালো কয়লার মতো। এই জৈব-অঙ্গার সহজেই সিমেন্টের মিশ্রণের সাথে মিশে গিয়ে তাকে আরও শক্তিশালী করে তোলে।

গবেষকরা জানিয়েছেন, তারা এখনও এই নতুন কংক্রিট কতটা টেকসই বা দীর্ঘস্থায়ী হবে, তা পরীক্ষা করছেন। তারা দেখছেন যে এটি ঠাণ্ডা, গরম, পানি বা ঘষা সহ্য করতে পারে কি না।

এই দলটি এখন শুধু কফি নয়, অন্যান্য জৈব বর্জ্য যেমন – কাঠ, খাবার বা কৃষিজ বর্জ্য দিয়েও এমন জৈব-অঙ্গার তৈরির চেষ্টা করছে। তাদের মূল লক্ষ্য হলো প্রকৃতি ও পরিবেশের যত্ন নেওয়া এবং আবর্জনা কমিয়ে আনা, যাতে পরিবেশের ওপর চাপ কমে।

তাদের এই গবেষণাটি “জার্নাল অফ ক্লিনার প্রোডাকশন” (Journal of Cleaner Production) নামক একটি বিজ্ঞান বিষয়ক পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *