একটি নতুন গবেষণা বলছে, ডার্ক ম্যাটার—যাকে এতদিন পুরোপুরি অদৃশ্য বলে মনে করা হতো—হয়তো তার মধ্য দিয়ে যাওয়া আলোকে সামান্য প্রভাবিত করতে পারে।
ডার্ক ম্যাটার, যা মহাবিশ্বের বেশিরভাগ অংশ জুড়ে রয়েছে, হয়তো পুরোপুরি অদৃশ্য নয়। ইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন গবেষণা অনুসারে, এই রহস্যময় পদার্থটি তার মধ্য দিয়ে যাওয়া আলোকে হালকা লাল বা নীল রঙে রাঙিয়ে দিতে পারে, যা শনাক্ত করার মতো একটি “চিহ্ন” তৈরি করে।
এখন পর্যন্ত বিজ্ঞানীরা বিশ্বাস করতেন যে ডার্ক ম্যাটার আলোর সাথে কোনোভাবেই যুক্ত হতে পারে না এবং শুধুমাত্র তার মহাকর্ষ বলের মাধ্যমে তাকে বোঝা যায়। এই মহাকর্ষ বলই গ্যালাক্সিগুলোকে একসাথে ধরে রাখে।
তবে, ইয়র্কের গবেষকরা বলছেন, আলো কোন ধরণের ডার্ক ম্যাটারের সংস্পর্শে আসছে তার ওপর নির্ভর করে এর রঙ কিছুটা বদলে যেতে পারে। যদি এটি সত্যি প্রমাণিত হয়, তবে মহাবিশ্বের এই লুকানো পদার্থটি খুঁজে বের করার জন্য এটি একটি নতুন পদ্ধতি হতে পারে।
এই তত্ত্বটি “সিক্স হ্যান্ডশেক রুল” (six handshake rule) ধারণার উপর ভিত্তি করে তৈরি। এই ধারণাটি বলে যে, পৃথিবীর যেকোনো দুজন মানুষ মাত্র কয়েকটি পরিচিত মানুষের মাধ্যমে একে অপরের সাথে সংযুক্ত। গবেষকরা মনে করছেন, কণার জগতেও এমন সংযোগ থাকতে পারে।
কণার সংযোগ যদিও ডার্ক ম্যাটার সরাসরি আলোর সাথে যুক্ত হয় না, এটি অন্য কণার মাধ্যমে পরোক্ষভাবে আলোকে প্রভাবিত করতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, WIMPs (উইকলি ইন্টারঅ্যাক্টিং ম্যাসিভ পার্টিকেল) নামক এক ধরনের ডার্ক ম্যাটার হিগস বোসন এবং টপ কোয়ার্কের মতো কিছু মধ্যবর্তী কণার মাধ্যমে আলোর সাথে যুক্ত হতে পারে।
ইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অফ ফিজিক্স, ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজির ডক্টর মিখাইল বাশকানভ বলেন, “বিজ্ঞান জগতে এটি একটি বেশ অদ্ভুত প্রশ্ন, কারণ বেশিরভাগ গবেষকই মনে করেন যে ডার্ক ম্যাটার অন্ধকার বা অদৃশ্য। কিন্তু আমরা দেখিয়েছি যে, সবচেয়ে অন্ধকার ধরনের ডার্ক ম্যাটারেরও এক ধরনের রঙের ছাপ থাকতে পারে।”
তিনি আরও বলেন, “এটি একটি চমৎকার ধারণা, এবং আরও উত্তেজনার বিষয় হলো, কিছু শর্তে এই ‘রঙ’ শনাক্ত করাও সম্ভব হতে পারে। সঠিক ধরনের নতুন প্রজন্মের টেলিস্কোপ দিয়ে আমরা এটা মাপতে পারব। এর মানে হলো, জ্যোতির্বিজ্ঞান আমাদের ডার্ক ম্যাটারের প্রকৃতি সম্পর্কে সম্পূর্ণ নতুন কিছু জানাতে পারে, যা খোঁজার কাজটিকে আরও সহজ করে তুলবে।”
তত্ত্ব পরীক্ষা করা গবেষণাটিতে বলা হয়েছে, কীভাবে ভবিষ্যতের পরীক্ষা-নিরীক্ষায় এই পরোক্ষ কণার সংযোগগুলো পরীক্ষা করা যেতে পারে। এটি বিজ্ঞানীদের ডার্ক ম্যাটারের কিছু তত্ত্বকে বাতিল করে অন্যগুলোর ওপর মনোযোগ দিতে সাহায্য করবে। তাই গবেষকরা মনে করছেন, ভবিষ্যতের টেলিস্কোপ তৈরির সময় এই সম্ভাবনাগুলো মাথায় রাখা উচিত।
ডার্ক ম্যাটারকে বোঝা আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর মধ্যে একটি। এই গবেষণার পরবর্তী ধাপ হবে এই তত্ত্বটি প্রমাণ করা। যদি এটি সফল হয়, তবে এমন একটি পদার্থ খোঁজার নতুন পথ খুলে যাবে যা এখন পর্যন্ত শুধুমাত্র মহাকর্ষ বলের মাধ্যমেই নিজের অস্তিত্ব জানান দিয়েছে।
ডক্টর বাশকানভ বলেন, “এখন বিজ্ঞানীরা কোটি কোটি টাকা খরচ করে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছেন – কিছু WIMPs খোঁজার জন্য, কিছু অ্যাক্সিয়ন বা ডার্ক ফোটন খোঁজার জন্য। আমাদের গবেষণা দেখাচ্ছে যে, আমরা আকাশের কোথায় এবং কীভাবে খুঁজব, সেই জায়গাটা আরও ছোট করে আনতে পারি। এতে আমাদের সময় বাঁচতে পারে এবং গবেষণার প্রচেষ্টাগুলো আরও নির্দিষ্ট দিকে চালিত হতে পারে।”
