কুকুর কি দেখে না, শুধু গন্ধই পায়?

গন্ধ দিয়ে তারা কত কিছু বুঝতে পারে? তাদের নাক কি সত্যিই এতটাই শক্তিশালী?

আমাদের মতো কুকুরেরা চোখে নয়, নাকে ভরসা করেই দুনিয়া বোঝে। একজন মানুষের নাকে যেখানে গন্ধ ধরার কোষ মাত্র ৬ মিলিয়ন, সেখানে কুকুরের নাকে তা ১০ মিলিয়নেরও বেশি! এমনকি তারা ০.০১ মাইক্রোলিটার গ্যাসোলিনের গন্ধ পর্যন্ত ধরতে পারে! এই বিশেষ ক্ষমতার কারণে কুকুর আমাদের শিকারি সাথি, অপরাধ দমনের সহযোগী, রোগ শনাক্তকারী, এমনকি প্রকৃতির বন্ধু হিসেবেও কাজ করছে।

তবে এতদিনেও আমরা জানতাম না, কুকুর ঠিক কীভাবে গন্ধগুলোকে বোঝে। কারণ মস্তিষ্কের গবেষণায় ব্যবহার হত ব্যয়বহুল যন্ত্রপাতি আর স্থির বসে থাকা দরকার হত—যা সব কুকুরের পক্ষে সম্ভব নয়। এবার একদল গবেষক সস্তা আর সহজ একটি উপায় বের করেছে—AI স্পেকল প্যাটার্ন বিশ্লেষণ। এতে কুকুরের মাথায় সবুজ লেজার ফেলে, বিশেষ ক্যামেরায় তিনটি মস্তিষ্কের অংশের (অ্যামিগডালা, অলফ্যাক্টরি বাল্ব ও হিপোক্যাম্পাস) প্রতিক্রিয়া রেকর্ড করা হয়। গন্ধ ছিল অ্যালকোহল, গাঁজা, মেনথল আর রসুন। ক্যামেরায় ধরা পড়া প্রতিফলনের প্যাটার্ন বিশ্লেষণ করে বোঝা যায়—কুকুর গন্ধের প্রতিক্রিয়ায় আবেগও প্রকাশ করে!

এই আবেগের বিষয়টা নতুন এক দিক দেখায়। যেমন, কুকুর ভেটেরিনারি ক্লিনিকের গন্ধ মনে রাখে, কারণ সেটা তার কাছে ভয়ের অভিজ্ঞতা। তাই স্নিফার কুকুরদের প্রশিক্ষণে গন্ধের সঙ্গে ইতিবাচক অনুভূতি জোড়া লাগানো দরকার। ভবিষ্যতে এমন ডিভাইসও আসতে পারে, যা কুকুর কী গন্ধ পাচ্ছে বা কী ভাবছে—তা সরাসরি আমাদের জানাবে। যেমনটা দেখা গিয়েছিল ডিজনির Up সিনেমায় ডগ নামের সেই কুকুরটার গলার কলে!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *