আম যা রক্তে শর্করার মাত্রা উন্নত করতে এবং শরীরের চর্বি কমাতে পারে

যুক্তরাষ্ট্রের জর্জ ম্যাসন ইউনিভার্সিটির একজন গবেষকের যুগান্তকারী একটি গবেষণা প্রমাণ করেছে যে, প্রক্রিয়াজাত চিনিযুক্ত খাবারের চেয়ে প্রাকৃতিক চিনিযুক্ত খাবার স্বাস্থ্যের জন্য বেশি উপকারী। আপাতদৃষ্টিতে ৩০ গ্রামের বেশি চিনিযুক্ত খাবারের চেয়ে ৭ গ্রাম চিনিযুক্ত খাবারকে বেশি স্বাস্থ্যকর মনে হতে পারে। তবে গবেষণা বলছে, বিষয়টি এতটা সহজ নয়। কম চিনি থাকা মানেই একটি খাবার স্বাস্থ্যকর হবে, এমন কোনো কথা নেই। বিশেষ করে, আম—যা উচ্চ শর্করাযুক্ত একটি ফল—ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করতে পারে।

গবেষণার প্রধান, ক্লিনিক্যাল নিউট্রিশন বিজ্ঞানী রাদেহ বসিরি এবং তার দল অংশগ্রহণকারীদের দুটি ভাগে ভাগ করেন। একটি দলকে প্রতিদিন তাজা আম খেতে দেওয়া হয়, আর অন্য দলকে দেওয়া হয় কম চিনিযুক্ত একটি গ্রানোলা বার। ছয় মাস ধরে তাদের রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা, ইনসুলিনের প্রতি শরীরের প্রতিক্রিয়া এবং শরীরের চর্বি পরিমাপ করা হয়। গবেষণার শেষে দেখা যায়, কম চিনিযুক্ত (১১ গ্রাম) গ্রানোলা বারের চেয়ে বেশি চিনিযুক্ত (৩২ গ্রাম) আম স্বাস্থ্যের জন্য বেশি উপকারী ছিল। যারা প্রতিদিন আম খেয়েছিলেন, তাদের রক্তে শর্করার নিয়ন্ত্রণ উন্নত হয়েছে, ইনসুলিন সংবেদনশীলতা বেড়েছে এবং শরীরের চর্বি কমেছে। এর কারণ হলো, ফলের প্রাকৃতিক চিনির সাথে ফাইবার, ভিটামিন এবং অন্যান্য পুষ্টি উপাদান থাকে যা স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী।

এই গবেষণার মূল উদ্দেশ্য হলো ডায়াবেটিস প্রতিরোধের জন্য মানুষকে আমসহ বিভিন্ন গোটা ফল খেতে উৎসাহিত করা। বসিরি বলেন, “যাদের ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বেশি, তাদের কেবল খাবারের চিনির পরিমাণের দিকে নজর দিলেই চলবে না, বরং চিনিটি কীভাবে শরীরে প্রবেশ করছে সেদিকেও মনোযোগ দিতে হবে।” গোটা ফলের মধ্যে থাকা প্রাকৃতিক চিনি প্রক্রিয়াজাত খাবারের যোগ করা চিনির মতো ক্ষতিকর নয়। এই গবেষণাটিই প্রথম দীর্ঘমেয়াদী ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল যা প্রি-ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য আমের মেটাবলিক এবং শারীরিক গঠনের উপকারিতা প্রমাণ করেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *