এই স্টার্টআপ দাবি করেছে—তারা পৃথিবীর প্রথম সফলভাবে বিলুপ্তপ্রায় প্রাণীকে আবার ফিরিয়ে এনেছে! ভয়ংকর ও রহস্যময় ‘ডায়ার উলফ’ আবার জন্ম নিয়েছে আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির জাদুতে। ১২,৫০০ বছর আগে হারিয়ে যাওয়া এই প্রজাতির তিনটি ছানা এখন জীবিত, আর তারা যেন ইতিহাসের পাতা ছিঁড়ে বেরিয়ে এসেছে।
ডালাসভিত্তিক Colossal Biosciences নামের একটি বায়োটেক কোম্পানি বলছে, তারা প্রাচীন ডায়ার উলফের দাঁত (১৩,০০০ বছর পুরনো) ও খুলি (৭২,০০০ বছর পুরনো) থেকে DNA বের করে, জিন সম্পাদনার (gene editing) মাধ্যমে গ্রে উলফের কোষ বদলেছে। এরপর সেই কোষ থেকে ক্লোনিং করে ২০টি পরিবর্তন এনে ডায়ার উলফের মতো বৈশিষ্ট্য তৈরি করে। সব মিলিয়ে, তারা তৈরি করেছে এমন এক হাইব্রিড প্রজাতি, যা দেখতে এবং স্বভাবে প্রাচীন ডায়ার উলফের মতোই। তিনটি ছানার জন্ম হয়—দুইটি পুরুষ (১ অক্টোবর ২০২৪) ও একটি মেয়ে (৩০ জানুয়ারি ২০২৫)। এগুলো জন্মেছে বড় জাতের কুকুরের শরীরে বিকাশ পেয়ে।
এই ছানাগুলো এখন রয়েছে ২,০০০ একর জায়গায়, ১০ ফুট উঁচু নিরাপত্তা বেড়ায় ঘেরা একটি গোপন স্থানে। তাদের দেখাশোনা করা হচ্ছে ড্রোন, ক্যামেরা এবং নিরাপত্তা কর্মীদের মাধ্যমে। এই স্টার্টআপ দাবি করেছে, এই প্রযুক্তির মাধ্যমে তারা ভবিষ্যতে ম্যামথ, ডোডো এবং তাসমানিয়ান টাইগারকেও ফিরিয়ে আনতে চায়। ইতোমধ্যে তারা বিপন্ন লাল নেকড়ের দুটি ক্লোন ছানাও তৈরি করেছে। যদিও অনেক বিজ্ঞানী প্রশ্ন তুলেছেন, এত টাকা বিলুপ্ত প্রাণী ফিরিয়ে আনার পেছনে খরচ না করে প্রকৃত জীববৈচিত্র্য রক্ষায় দিলে বেশি উপকার হতো। তবুও বিজ্ঞানীদের একাংশ এটাকে বলছেন “এক বিশাল লাফ”।
তবে বড় প্রশ্ন থেকে যায়—এই হাইব্রিড প্রাণীরা প্রকৃতির মধ্যে ফিরবে তো? অনেকেই বলছেন, যেখানে আজকের দিনেও সাধারণ নেকড়ের টিকে থাকা কঠিন, সেখানে বিলুপ্ত নেকড়ে আবার পরিবেশে ফিরে গিয়ে কী ভূমিকা রাখবে, তা ভাবার বিষয়। তবে এতটুকু নিশ্চিত—এই ঘটনা বিজ্ঞানের ইতিহাসে একটি নতুন যুগের সূচনা করে দিয়েছে!
