শনির চাঁদের ভিনগ্রহী মহাসাগরে জটিল রসায়নের নতুন প্রমাণ মিলল

নাসার ক্যাসিনি মহাকাশযানের প্রায় দুই দশক আগে সংগ্রহ করা তথ্য নতুন করে বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা শনি গ্রহের বরফ-ঢাকা চাঁদ এনসেলাডাসে (Enceladus) আরও জটিল জৈব অণুর সন্ধান পেয়েছেন। এই আবিষ্কার থেকে বোঝা যায় যে, চাঁদটির বরফের চাদরের নিচে থাকা বিশাল মহাসাগরে দারুণ সব রাসায়নিক ঘটনা ঘটছে।

কী আবিষ্কার হয়েছে?

এনসেলাডাসের বরফের পৃষ্ঠে থাকা ফাটল দিয়ে ফোয়ারার মতো পানি এবং বরফের কণা বেরিয়ে আসে। বিজ্ঞানীরা এই কণাগুলো পরীক্ষা করে বিভিন্ন ধরণের জৈব অণু খুঁজে পেয়েছেন, যার মধ্যে কয়েকটি এই প্রথমবার দেখা গেল। এই জৈব অণুগুলো হলো জীবনের অন্যতম প্রধান উপাদান।

যদিও এই অণুগুলো কোনো জীবন্ত প্রাণী থেকে তৈরি হয়নি, তবে এগুলো প্রাণের উৎস হিসেবে কাজ করতে পারে। আরও মজার বিষয় হলো, এই আবিষ্কার পৃথিবীর গভীর সমুদ্রের মতো একটি পরিবেশের ইঙ্গিত দেয়। পৃথিবীর সমুদ্রের তলদেশে থাকা উষ্ণ আগ্নেয়গিরির মুখ (hydrothermal vents) থেকে একই ধরণের জৈব পদার্থ বের হয় এবং সেখানে সূর্যের আলো ছাড়াই প্রাণের অস্তিত্ব রয়েছে। বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, এনসেলাডাসের সমুদ্রের তলদেশেও একই রকম পরিবেশ থাকতে পারে।

এনসেলাডাস কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?

সৌরজগতে পৃথিবীর বাইরে প্রাণের সন্ধানে এনসেলাডাস একটি অন্যতম সেরা জায়গা। এর কয়েকটি কারণ হলো:

  • এর পুরু বরফের চাদরের নিচে একটি বিশাল তরল পানির মহাসাগর রয়েছে।
  • শনির মহাকর্ষীয় টানের কারণে চাঁদটির কেন্দ্র উত্তপ্ত থাকে, যা এই মহাসাগরকে তরল রাখতে সাহায্য করে।
  • সেখানে প্রাণের জন্য প্রয়োজনীয় রাসায়নিক উপাদান রয়েছে।

বিজ্ঞানীরা আগে থেকেই জানতেন যে এনসেলাডাসে প্রাণের জন্য প্রয়োজনীয় ছয়টি মূল উপাদানের (কার্বন, হাইড্রোজেন, নাইট্রোজেন, অক্সিজেন ও ফসফরাস) মধ্যে পাঁচটিই আছে। নতুন এই আবিষ্কারের পর এখন শুধু সালফার খুঁজে পাওয়া বাকি।

আবিষ্কারটি কীভাবে সম্ভব হলো?

ক্যাসিনি মহাকাশযানটি অত্যন্ত দ্রুত গতিতে এনসেলাডাসের পাশ দিয়ে উড়ে যাওয়ার সময় এই তথ্য সংগ্রহ করেছিল। প্রচণ্ড গতির কারণে তথ্যগুলো খুব অস্পষ্ট (noisy) ছিল, তাই বিস্তারিত বিশ্লেষণ করা কঠিন ছিল। কিন্তু বিজ্ঞানীরা সম্প্রতি নতুন কৌশল এবং উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে সেই অস্পষ্টতা দূর করেছেন এবং বরফকণায় লুকিয়ে থাকা এই জৈব অণুগুলো শনাক্ত করতে পেরেছেন।

এই আবিষ্কার প্রমাণ করে যে এনসেলাডাসে প্রাণের উপযোগী একটি পরিবেশ থাকতে পারে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, যদি এমন একটি উপযুক্ত পরিবেশে প্রাণের সন্ধান নাও পাওয়া যায়, সেটাও একটি বড় আবিষ্কার হবে। কারণ তখন প্রশ্ন উঠবে, সব সঠিক উপাদান থাকা সত্ত্বেও কেন সেখানে প্রাণের জন্ম হলো না। বিজ্ঞানীরা এখন ক্যাসিনির পাঠানো তথ্য আরও বিশ্লেষণ করছেন এবং ভবিষ্যতে আরও নতুন কিছু জানার আশা করছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *