এক প্রজাতির প্রাণী অন্য প্রজাতির বাচ্চা জন্ম দেবে! গল্প বা সায়েন্স ফিকশন সিনেমার মতো শোনালেও এটাই সত্যি। ইউরোপে সম্প্রতি এমন এক পিঁপড়ার সন্ধান পাওয়া গেছে, যারা নিজেদের প্রয়োজনে অন্য এক প্রজাতির পিঁপড়াকে ক্লোন করছে। এই অবিশ্বাস্য ঘটনাটি জীববিজ্ঞানের পুরনো অনেক ধারণাকেই চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিয়েছে। ইবেরিয়ান হারভেস্টার অ্যান্ট (Messor ibericus) নামের এই পিঁপড়াদের কলোনি টিকিয়ে রাখার জন্য কর্মী পিঁপড়ার দরকার হয়। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই কর্মী পিঁপড়া তৈরির জন্য তাদের রানীদের অন্য এক প্রজাতি, মেসর স্ট্রাকটর (Messor structor) পুরুষের সাথে মিলিত হতে হয়। বিজ্ঞানীরা যখন দেখলেন এমন অনেক জায়গায় ইবেরিয়ান পিঁপড়াদের বসতি আছে যেখানে অন্য প্রজাতির কোনো অস্তিত্বই নেই, তখন তারা এক বিরাট ধাঁধায় পড়ে গেলেন।
এই রহস্যের সমাধান করতে গিয়ে বিজ্ঞানীরা যা আবিষ্কার করলেন, তা ছিল রীতিমতো চমকে দেওয়ার মতো। তারা দেখলেন, ইবেরিয়ান হারভেস্টার অ্যান্টদের রানী নিজেই সেই অন্য প্রজাতির পুরুষ পিঁপড়ার জন্ম দিচ্ছে! অর্থাৎ, রানী তার নিজের ডিএনএ ব্যবহার না করে অন্য প্রজাতির পুরুষ পিঁপড়ার হুবহু কপি বা ক্লোন তৈরি করে ডিম পাড়ে। এই ক্লোন করা পুরুষ পিঁপড়ারা বড় হয়ে নতুন রানীদের সাথে মিলিত হয় এবং কলোনির জন্য প্রয়োজনীয় কর্মী পিঁপড়া তৈরি করতে সাহায্য করে। বিজ্ঞানীরা ল্যাবরেটরিতে ডিএনএ পরীক্ষা করে এবং দীর্ঘ সময় ধরে রানীদের পর্যবেক্ষণ করে এই বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছেন। তারা দেখেন, রানীর শরীর থেকে জন্ম নেওয়া কিছু পুরুষ পিঁপড়ার ডিএনএ হুবহু অন্য প্রজাতির, যা প্রমাণ করে যে সে আসলেই ভিন্ন প্রজাতির ক্লোন তৈরি করছে।
প্রাণীজগতে এমন ঘটনা এটাই প্রথম। কোনো প্রাণী তার জীবনচক্রের স্বাভাবিক অংশ হিসেবে অন্য প্রজাতির জন্ম দিচ্ছে, এমনটা আগে কখনো দেখা যায়নি। বিজ্ঞানীরা এই অদ্ভুত প্রজনন পদ্ধতির একটি নতুন নামও দিয়েছেন—জেনোপ্যারিটি (xenoparity), যার সহজ অর্থ হলো ‘ভিন্ন প্রজাতির জন্মদান’। এই আবিষ্কারটি শুধু পিঁপড়াদের জীবনযাত্রা সম্পর্কেই আমাদের নতুন করে ভাবতে শেখাচ্ছে না, বরং প্রকৃতিতে প্রজাতির মধ্যেকার সম্পর্ক এবং বাধাগুলো কতটা জটিল ও বিস্ময়কর হতে পারে, সেই ধারণাও দিচ্ছে। প্রকৃতি যে কত অজানা রহস্যে ভরা, এই ঘটনাটি তারই এক অসাধারণ উদাহরণ।
